রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধা অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। পদ্মার ৫০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত ফেরিটি উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। অষ্টম দিনের উদ্ধার অভিযানে ডুবে যাওয়া ৯টি যানবাহনও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধাকে পানির উপরিভাগ থেকে সোজা করে টেনে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে নদীর তীরের পাশে আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ডুবে যাওয়া নয়টি ট্রাকের সবগুলো ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও নদীতে উদ্ধারকারী জাহাজ ঝিনাই দিয়ে অনুসন্ধান করানো হয়েছে অন্য কোনো যানবাহন আছে কি-না।
এদিকে, ফেরি দুর্ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি কমিটির তাদের তদন্ত কাজ চলমান আছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা জেসমিন জানান, ফেরি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে এরই মধ্যে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। পাঁচ কর্ম দিবস শেষ হলেও আরো দুইদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১২টার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি রজনীগন্ধা। ফেরিটিতে ৯টি মালবাহী যানবাহন ছিল। রাত দেড়টার দিকে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আটকা পড়ে ফেরিটি। পরের দিন বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল আটটার দিকে ফেরিটি ৯টি যানবাহন নিয়ে ডুবে যায়। এসময় ফেরিতে থাকা ট্রাক চালক, সহকারী ও ফেরির স্টাফসহ ২১ জনের মধ্যে ২০ জনকে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জীবিত উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিখোঁজ হন ফেরির সহকারী ইঞ্জিন চালক হুমায়ুন কবির। ফেরি ডুবির ৬ দিন পর পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভাটিতে হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় পদ্মায় ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। হুমায়ুন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার মাটিভাঙ্গা গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। তিনি পাটুরিয়ায় ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধার সহকারী ইঞ্জিন চালক ছিলেন।